মুজাফরাবাদ যশোদা নগেন্দ্র নন্দী (আঃ) মহিলা ডিগ্রী কলেজটি যাদের নামে নামকরণ করা হয় তাঁরা হলেন মুজাফরাবাদ গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারের দুই সহোদর ভ্রাতা। তাঁদের জীবন বৃত্তান্ত, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচয় এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের ভূমিকা নিম্নে দেওয়া হল।
১। যশোদা নন্দী
পিতার নামঃ- স্বর্গীয় ষষ্ঠী চরন নন্দী
মাতার নামঃ- রাজকুমারী নন্দী
স্থায়ী ঠিকানাঃ- গ্রাম + ডাকঃ- মুজাফরাবাদ, থানাঃ- পটিয়া, জেলাঃ- চট্টগ্রাম।
২। নগেন্দ্র নন্দী
পিতার নামঃ- স্বর্গীয় ষষ্ঠী চরন নন্দী
মাতার নামঃ- রাজকুমারী নন্দী
স্থায়ী ঠিকানাঃ- গ্রাম + ডাকঃ- মুজাফরাবাদ, থানাঃ- পটিয়া, জেলাঃ- চট্টগ্রাম।
ব্যক্তি জীবনে সম্ভ্রান্ত এবং জমিদার পরিবারের সন্তান হলেও উচ্চ শিক্ষা থেকে তাঁরা বঞ্চিত ছিলেন। তাঁরা উভয় ভ্রাতা শিক্ষানুরাগী ছিলেন। অত্র এলাকার অনগ্রসর নারীদের শিক্ষার উন্নয়ন তাঁদের সদুরপ্রসারী চিন্তাধারার ফসল। পরবর্তী পর্যায়ে কালের পরিক্রমায় অনগ্রসর নারীর উচ্চ শিক্ষার জন্য দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রথম মহিলা কলেজ করার স্থির সিন্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় তাঁদের সুযোগ্য সন্তানেরা ১৯৮৯ সালে স্থানীয় জনগণের অনুপ্রেরণায় মুজাফরাবাদ যশোদা নগেন্দ্র নন্দী (আঃ) মহিলা ডিগ্রী কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁরা উভয়েই ছিলেন দানবীর। গরীব দুঃখী মানুষের কল্যাণে তাঁদের অবদান অপরিসীম। সমাজের বিভিন্ন মঠ, মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে তাঁরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ না করিলে ও মুক্তিযোদ্ধাদের তাঁরা খাবার ও আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে সহায়তা করেছেন। পাক হানাদার বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞে ১৯৭১ সালের ৩রা মে অত্র এলাকায় প্রায় তিন শতাদিক লোক শহীদ হয়েছেন। শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে সরকারী অর্থায়নে অত্র এলাকায় একটি বধ্যভূমি ও শহীদ স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তাঁদের উত্তরসূরী শ্রী যতীন্দ্র লাল নন্দী তাঁর পিতা এবং কাকার নামে এই কলেজটির নামকরণ করেন। নারী শিক্ষার উন্নয়নে নন্দী পরিবার জাতি গঠনের কাজে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।